khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

শিহাব সরকার এর “শহীদ কাদরীর কবিতা সমগ্র” নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ

58

নিউইয়র্ক: বাংলা ভাষার অন্যতম শক্তিশালী কবি হলেন শহীদ কাদরী। তিনি গত ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা সত্বেও তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে গভীরভাবে। শহীদ কাদরী প্রথমে জার্মানী, বস্টন ও পরে নিউ ইয়র্কে বসবাস করেন। তাঁর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁকে প্রথম দিকে সপ্তাহে দু’বার এবং পরে তিনবার ডায়েলাইসিস করতে হতো। শহীদ কাদরীর সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে নিখরচায় তিনি হেলথ এইড ও হোম এইডের ব্যবস্থা পেতেন। নিউ ইয়র্কের কবি ফকির ইলিয়াস শহীদ কাদরীর ৬৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় লিখেছিলেন, “শহীদ কাদরী বাংলা কবিতায় একজন ক্যাপ্টেন, একজন নিয়ন্ত্রক, প্রজন্মকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে অতন্দ্র প্রহরী।… তাঁর কবিতায় প্রবেশ করলেই আমরা মনের অজান্তে বলে উঠি “তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা”। “সত্তরের দশকে ঢাকা মাতানো নাজমুন নেসা পিয়ারি”–জনকন্ঠে লিখেছিলেন ২০০৫ সালে তরুন পুরষ্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক মাহমুদ হাফিজ।

যখন পিয়ারি তার প্রথম সাহিত্য-কর্ম অনুবাদ উপন্যাস “পিয়ানো টিচার দিয়ে বইয়ের বাজার মাৎ করেছিলেন। সেই পিয়ারির প্রেমে পরেছিলেন তরুণ শহীদ কাদরী। পিয়ারিকে নিয়েই এই কবিতা “তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা”। রিলকের যেমন আন্দ্রেয়া সালোমে শহীদ কাদরীর তেমনি নাজমুন নেসা পিয়ারি। শহীদ ও পিয়ারি দুজনেরই একমাত্র সন্তান আদনান কাদরী। আদনান বস্টনে শহীদ কাদরীর সঙ্গে থেকেই স্কুলের পাঠ শেষ করেন।। তারপর এমহার্সট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতিতে মাস্টার ডিগ্রী করে নিউ ইয়র্কে প্রথম চাকরি শুরু করেন মর্গেন স্ট্যানলি ব্যাংকে ব্যাংকার হিসেবে।
শহীদ কাদরী নিউ ইয়র্কে অসুস্থ অবস্থায় আসার পর থেকে আদনান কাদরী তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। বাবা হাসপাতালে গেলে তাকে ভালো হাসপাতালে স্থানান্তর করা ইত্যাদি কোন কিছুই বাদ রাখেন নি। সেই সময়ে নিউইয়র্কে শহীদ কাদরী তৃতীয় স্ত্রী নীরা কাদরীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। শহীদ কাদরী আমেরিকায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়েই মৃত্যূর দিন অবধি বসবাস করেছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁর মৃতদেহ সসম্মানে বাংলাদেশে এনে শুইয়ে দিয়েছেন বাংলার মাটিতে।

শহীদ কাদরীর মৃত্যুর পর আমরা ফেসবুকে জেনেছিলাম তাঁর একমাত্র সন্তান আদনান বাবার সাহিত্যকর্মে আগ্রহী এবং তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্থাৎ সাহিত্যকর্মের রাইট উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে চায়। শহীদ কাদরীর প্রথম তিনটি বই (উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, কোথাও ক্রন্দন নেই) একসাথে “শহীদ কাদরীর কবিতা” নামে সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে শহীদ কাদরীর অনুমতিক্রমে। তাঁর মৃত্যুর পর আদনান সাহিত্য প্রকাশের সঙ্গে কথা বলে এবং জানায় যেভাবে বইটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে সে সন্তুষ্ট। ২০১৭ সালে বই মেলায় প্রকাশিত একটি বই দেখে আমরা ক্ষুব্ধ। শহীদ কাদরীর শেষ বই “চুম্বনেগুলো পৌঁছে দিও” সহ প্রথম তিনটি বই এবং কয়েকটি অপ্রকাশিত কবিতা নিয়ে একটি কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।

বইয়ের নাম: – “শহীদ কাদরীর কবিতা সমগ্র”, সম্পাদক শিহাব সরকার। বইটির প্রচ্ছদে লেখা সম্পাদক : শিহাব সরকার।। আমরা জানি প্রফেসর আনিসুজ্জামান স্যারের মত বিদগ্ধ মানুষও যদি কখনো কোন বই সম্পাদনার কাজ করেন তাহলেও বইয়ের প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হয় না। বইয়ের ভেতরে কবিতা সাজানোর বিষয়টিও ঠিক মতন পালন করা হয়নি। বইয়ের শেষ পাতা… ফ্ল্যাপে দুজনের ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখা আছে। বইয়ের কপিরাইটের জায়গায় শহীদ কাদরীর ছেলে আদনানের নাম নেই। সেখানে অপরিচিত এক মহিলার নাম। আমরা চাই প্রকাশক এই মুহূর্তে এ বই বিক্রি ও প্রকশনা কাজ বন্ধ করুক। আমরা, শহীদ কাদরীর কবিতার অনুরাগীরা, এরকম অপ্রীতিকর কাজের বিরোধিতা করছি এবং শীঘ্র এর প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার দাবী জানাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.