khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের নিয়ে আজকাল-এর গোলটেবিল বৈঠক

0 16

নিউইয়র্ক: সাপ্তাহিক ‘আজকাল’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশের চারুশিল্পীরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর বাংলাদেশি কমিউনিটি নিজ দেশের চিত্রশিল্পীদের প্রমোট করতে এগিয়ে আসেন না। অথচ প্রবাসের ভারতীয় ও অন্যান্য দেশের মানুষেরা তাদের দেশের শিল্পীদের সহযোগিতা করে থাকেন। ছবি কিনে, ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করে তারা শিল্পীদের পাশে থাকেন।
গত ৩০ জুলাই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মেজবান রেস্টুরেন্টে ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চারুশিল্পী’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও প্রবাসের চারুশিল্পীরা। গোলটেবিল আলোচনায় ‘আজকাল’-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের চিত্রকর্ম নিয়ে আজকাল-এর উদ্যোগে একটি প্রদর্শনী আয়োজনের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আজকাল-এর এসোসিয়েট এডিটর হাসানুজ্জামান সাকী।

আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের সাবেক ডীন মতলুব আলী, চিত্রশিল্পী ও ঢাকার গ্যালারী-২১ এর পরিচালক শামীম সুবরানা, আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো ও সম্পাদক মনজুর আহমদ, চারুশিল্পী খুরশিদ আলম সেলিম, রাগীব আহসান, মনিরুল ইসলাম, তাজুল ইমাম, শামীম বেগম, সালমা কানিজ, আর্থার আজাদ, আজিজ নঈমী, কায়সার কামাল, সৈয়দ আজিজুর রহমান তারিফ, ওয়াহিদ আজাদ, জাহেদ শরীফ, টিপু আলম, জেবুন্নেসা কামাল, কানিজ হুসনা আকবরি, রুদ্র মোহাম্মদ আয়ুধ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেলের স্ত্রী প্যান্ডোরা চৌধুরী, আলোকচিত্রশিল্পী ওবায়দুল্লাহ মামুন, আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ, সাংবাদিক রিমন ইসলাম, আজকাল-এর নির্বাহী সম্পাদক শওকত ওসমান রচি, বাণিজ্যিক প্রধান আবুবকর সিদ্দিক, আলোকচিত্রী এ হাই স্বপন প্রমুখ।

কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, আমি মনে করি, আজকের এ গোলটেবিল কনসেপ্ট চারু শিল্পের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। চারুশিল্পে হতাশার পাশাপাশি আশাবাদের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। আজকের গোলটেবিলে ওঠে আসা প্রস্তাবগুলো আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো

মতলুব আলী বলেন, জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে চারুকলার ওপর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ছবি আঁকা তখন হারাম ছিল। ঘরের মধ্যেও ছবি টানানো যেত না। এখনো অনেকে আছেন যে ঘরে ছবি টানানো হলে নামাজ পড়া যাবে না বলে মনে করেন। জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন, শিক্ষিত শিল্পী সমাজ গড়ে তুলতে হবে। মেয়েরা প্রথমদিকে চারুকলায় ভর্তি হয়নি। পরবর্তীতে শিক্ষকের সাথে তারা ক্লাসে প্রবেশ করতেন, শিক্ষকের সাথে ক্লাস থেকে বের হতেন। এখনতো শুধু মেয়েদের নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন হয়ে থাকে। এখন বাংলাদেশে শিল্পকলার আন্দোলন চলছে আন্তর্জাতিক মানের।
শামীম সুবরানা বলেন, অনেকেই বলছেন বাংলাদেশের শিল্পীরা ভাল অবস্থানে নেই। আমি তাদের সাথে একমত। আমি বলবো, সঙ্গীত বা অন্যান্য অঙ্গনের চেয়ে চারুশিল্পীরা অনেক এগিয়ে আছেন। হয়তো বাজার পাচ্ছেন না।

জাকারিয়া মাসুদ জিকো বলেন, কনসাল জেনারেল শামীম আহসান একজন কূটনীতিকই নয়, তিনি একজন শিল্পমনা মানুষ। তিনি শিল্পকে ধারণ করেন বলেই নারী শিল্পীদের নিয়ে নিউইয়র্কে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরেছেন। আমরা সেই সুযোগে বাংলাদেশ থেকে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সমস্ত চারুশিল্পীদের নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমি আজ একটি ঘোষণা দিতে চাই। প্রবাসী বাংলাদেশি চারুশিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে আমরা আজকাল-এর পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করবো। জাকারিয়া মাসুদ এই আয়োজনে সবার সহযোগিতা চান।
মনজুর আহমদ বলেন, উপমহাদেশে শিল্পচর্চা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সেই উত্তরাধিকারই বহন করছে। কিন্তু বাংলাদেশকে প্রচুর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই চর্চাকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। এখনও সেখানে আজ ভাস্কর্র্য শিল্প হুমকির মুখে। একটি মহল সব সময় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে পেছন দিকে টেনে নিয়ে যেতে চায়। এদের মোকাবিলা করে আমাদের শিল্পীরা সাহসের সঙ্গে শিল্পকলাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। শিল্পীরা উদার মনের ও সংস্কারমুক্ত বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে বা আর কোন দেশে কেউ ভাস্কর্য শিল্পের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই। সব কুসংস্কার দূর করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

খুরশিদ আলম সেলিম বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ৮ নারী এবং আমেরিকান ৮ নারীকে নিয়ে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলাম। এছাড়াও কনকচাঁপা, শারমিন সহ বেশ কয়েকজনের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে ৬ বছর ধরে একটি গ্যালারী পরিচালনা করে আসছি। এছাড়া গতবছর জয়নুল আবেদীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি এক্সিবিশনের আয়োজন করেছিলাম। আমাদেরতো সীমাবদ্ধতা আছে। বিশ্ব পরিসরে আসতে হলে ফোকাস এবং ডেলিভারীর বিষয়টা রয়েছে।

রাগীব আহসান বলেন, আমি নিজে নিজে ছবি আঁকি। আমার কোন একাডেমিক শিক্ষা নেই। নিউইয়র্কে সব দেশের লোক থাকেন। ফলে সারা পৃথিবীতে প্রদর্শনী না করলেও চলবে। নিউইয়র্কে আয়োজন করলে সারা বিশ্বের লোকজন দেখতে পারবে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থান ভাল। নিজেরটা নিজেই গড়ে তুলতে হবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারুকলা থেকে পাশ করা অনেকেই কাজ করছেন। তবে বাংলাদেশের চারুকলা কতটুকু এগুচ্ছে সেটা ভাবনার বিষয়। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হতে হবে।

তাজুল ইমাম বলেন, শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা মানে তাদের শিল্পকলা কেনা। তবে অনেক শিল্পী তাদের শিল্পকর্ম ভোল্টে রেখে দেন। তারা মনে করেন যে মৃত্যুর পর এগুলোর দাম বাড়বে। পৃথিবীতে যত আর্ট মুভমেন্ট হয়েছে তার সবগুলো হয়েছে ইউরোপ থেকে। সম্প্রতি কালীদাস কর্মকারকে পারফরমেন্স আর্ট এর জন্য পুরস্কার দেয়া হয়। পারফরমেন্স আর্ট কি তা-ই জানলাম না।গুলশান হোসেন বলেন, আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। চারুকলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন অংশে কম নয়। বাংলাদেশের শিল্পীরা ভাল কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চিত্রকলায় বাংলাদেশ একেবারেই অবহেলিত নয়। দেশের শিল্পীরা বিদেশে ভাল করছেন।

শামীম বেগম বলেন, আমি আমার বুকে চাপা থাকা কষ্টগুলো প্রকাশ করতে পারছিলাম না। সাপ্তাহিক আজকাল সে সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা আর্টিস্টরা সবসময় প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চাইতাম। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা সবসময় বাধা দিতেন। তাঁরাই শুধু প্রদর্শনীতে অংশ নিতে চাইতেন। আমি একবার চারুকলায় প্রদর্শনী করতে গিয়ে বাধাগ্রস্থ হলাম। জিদ করে রাস্তায় প্রদর্শনী করতে চেয়েছিলাম। অথচ আমি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস মিউজিয়ামে চিত্রপ্রদর্শনী করেছি। শিক্ষকরা মনের সংকীর্ণতা দূর করতে চান না। তারা মনে করেন তারাই শিল্পী।

সালমা কানিজ বলেন, ১০ থেকে ১২ বছর আগে নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টে আমরা একসাথে হতে পেরেছিলাম। এত বছর পর আমরা আবার একসাথে হয়েছি। এজন্য প্রথমত ১৮ নারী শিল্পীদের নিয়ে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে ধন্যবাদ জানাই। ‘আজকাল’ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে আমাদের কথা বলার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছে। আজকালকেও ধন্যবাদ জানাই।
আর্থার আজাদ বলেন, স্বাধীনতা উত্তর কালে বাংলাদেশে চারুকলার উন্মেষ ঘটেছে। জয়নুল আবেদীন ইউরোপে গিয়ে আধুনিক চারুকলা শিখে এসেছিলেন। পরে তিনি একটি ব্যাচের ছাত্রদেরও ইউরোপে পাঠান। সেখান থেকেই দেশে আধুনিক চারুকলার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দেশের বাইরে যেসব শিল্পী আছেন তারা সবাই বড় মাপের শিল্পী। তবে বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে শিল্পকলার সেভাবে উত্তরণ হয়নি। আজিজ নঈমী বলেন, আমরা যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছিÑ প্রতিবছর একটি করে চিত্রকর্ম তৈরি করতে পারি। বছরে একবার নিজেরাই একটি এক্সিবিশন করতে পারি। তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।কায়সার কামাল বলেন, শিল্পকলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা তেমন এগুতে পারিনি। ভারতীয়রা ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের উদ্যোগে। কেন এমনটা হলো এটা ভাবতে হবে। আমাদের দূর্বলতাগুলো কি তা চিহ্নিত করতে হবে।
সৈয়দ আজিজুর রহমান তারিফ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কারুশিল্প কোনভাবে পরিচিত নয়। এটা খুবই বেদনার বিষয়। নিজেকে কতটুকু যোগ্য করে তুলতে পারলে আমরা আন্তর্জাতিক শিল্পকলায় নিজেদের পরিচিত করতে পারবোÑ এটাই আজকের গোলটেবিলে আমার জানার বিষয় সবার কাছে। প্রয়াত জয়নুল আবেদীন একবার প্রস্তাব রেখেছিলেন, সম্যক জ্ঞান আহরণের জন্য রাষ্ট্রদূতরা একবার হলেও চারুকলা ঘুরে যাবেন। সে প্রস্তাব আর বাস্তবায়ন হয়নি।

ওয়াহিদ আজাদ বলেন, আর্ট কলেজের পরিবেশ একটি ফ্যামিলির মত। আমরা যারা সদস্য ছিলাম ফ্যামিলির মত চলেছি। আজকে নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক আজকাল-এর উদ্যোগে আমরা অনেকেই একসাথে হতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দের। জাহেদ শরীফ বলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো প্রমোটার নেই। তবে সেলিম ভাই, সুবরানা আপা আছেন। এদের মতো আরো অনেককে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের চারুশিল্পীদের মেধার অভাব নেই। এখন শুধু দরকার একটু পৃষ্ঠপোষকতা, দরকার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা।টিপু আলম বলেন, নিউইয়র্ক এমন একটি জায়গা যা কমিউনিটি বেইজড। চাইনিজরা চাইনিজদের, ভারতীয়রা ভারতীয় শিল্পীদের চিত্রকর্ম কিনে প্রমোট করে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তা হয় না। আমাদের কেউ প্রমোট করে না।

জেবুন্নেসা কামাল বলেন, কয়েকদিন আগে নিউইয়র্কে নারী চিত্রশিল্পীদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে। সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সবাই যদি আমরা এক থাকতে পারি আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা আমাদের কর্মে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছি। তাই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের পৃষ্ঠপোষকতায়। কানিজ হুসনা আকবরি বলেন, বাংলাদেশ থেকে নাচ-গানের শিল্পীরা আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। অভিনয়শিল্পীরা আসেন। কেবল চিত্রশিল্পীরা আসেন না। আমি মনে করি, সব সরকার করে দিবে না। আমেরিকা, জার্মান বা ফ্রান্সে আমাদের যারা ডাক্তার আছেন তারা সবাই স্বচ্ছল। তাদের বাসায় গিয়ে দেখেন কয়টা পেইন্টিং আছে।

রুদ্র মোহাম্মদ আয়ুধ জাহাঙ্গীর বলেন, কেউ কিছু করে দেবে এ আশা না করে নিজেদেরই করা উচিত। আমরা যারা আছি নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারি। বাংলাদেশি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বা ধনী ব্যক্তিদের বাড়িতে একটি শিল্পকর্মও নেই। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের বাসায় গিয়ে দেখেন তাদের বাসায় কিন্তু শিল্পকর্ম শোভা পাচ্ছে।আজকাল-এর এসেসিয়েট এডিটর হাসানুজ্জামান সাকী বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার ভাল লাগার কথা বলতে পারি। আমি যখন মসজিদে যাই আমার শান্তি শান্তি লাগে। মন্দির-গির্জায় গেলেও শান্তি লাগে। তেমনি চিত্রকলা দেখলে, কোনো গ্যালারীতে গেলে আমার শান্তি শান্তি লাগে। চিত্রকলা আমাকে শান্তি দেয়।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply