Share

ঢাকা : যুক্তরাজ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সার্বিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।আজ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী এবং লর্ড আহমেদ অব উইমব্লিডন তারিক মাহমুদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন সার্বিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে’। তিনি আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তারিক মাহমুদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সেক্সচুয়াল ভায়োলেন্স ইন কলফ্লিক্ট বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি।বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এ সময় ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত বা ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে বলেন, এতে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না এবং বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য থেকে যেসব ব্যবসায়িক সুবিধাদি পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে।ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী আগামী বছর অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সম্মেলনে নারী শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।তারিক মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের চমৎকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেরও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘বাংলাদেশেরও বলার মত একটি চমৎকার অবিশ্বাস্য গল্প আছে এবং আপনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, এই সন্ত্রাসবাদ এবং মানব পাচার বন্ধে সারা বিশ্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাকে মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সরকারি উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বর্তমান বাংলাদেশ সফরকে গঠনমূলক আখ্যায়িত করে বলেন, এ সময় তাঁর সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নারী শিক্ষার উন্নতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই তাঁর সরকার নারী শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাপক গণমচেতনতা সৃষ্টি করেছে’।শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শতকরা ৬০ ভাগ শিক্ষকই নারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।নারী শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির পিতা বলতেন নারীরা আয় উপার্জন করতে পারলে সংসারে তাঁদের মর্যাদা বাড়ে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহযোগিতায় সীমান্তে মানব পাচার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউকেই কোন প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর জন্য বাংলাদেশের ভূখন্ডকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এই ব্যাধি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীকে এ সম্পর্কে বলেন, আজকাল কোন রকম সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে গ্রামবাসীরা পর্যন্ত তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনছে।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
25Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax