Share

নেদারল্যান্ডস (হল্যান্ড) আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ অত্যান্ত বেদনার সাথে-স্মরণ করেছেন, ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার ১০তম ‘কারাবন্দী দিবস’। আজকের দিনে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাচ্ছি, কৃতজ্ঞতায়ভরা ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’। নেতৃবৃন্দ আরও বলেনঃ ২০০৭ সালের ১৬ই জুলাই, তৎকালীন সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘আজকের এই দিনটিতেই’ বিনা কারণে, অত্যান্ত নেক্কারজনক ভাবে-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভানেত্রী ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেছিলেন।

আজকে’র দিনটির স্মৃতিচারণ করে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতির জনকের কন্যাকে সেদিন গ্রেফতার করায়-বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। সেদিন, আমরা কোন ভাবেই আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর গ্রেফতার ও কারাবাস মেনে নিতে পারিনি। বিশ্বব্যাপী জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে। হল্যান্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে, নেদারল্যান্ডেও বিরামহীন আন্দোলন অব্যাহত রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম।

আজকের দিনের স্মৃতিচারণে এখানে আরও উল্লেখ করা হচ্ছে যে, ১/১১ সৃষ্টির পর, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার ও তাঁর ‘১১ মাস’ কারাবাসের সময়ে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে-তাঁর মুক্তির দাবীতে একের পর এক বিক্ষোভ-সমাবেশ, সভা, মিছিল ছাড়াও তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ এর বরাবরে-৬টি স্মারক লিপি এবং একযোগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, ইউরোপিয় কমিশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোসে বারাসো, কমনওয়েলথ সেক্রেটারী জেনারেল কমলেশ সরমা, এ্যামনেসটি ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারী জেনারেল, হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস জেনেভা, তৎকালীন সিনেটর ও আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তৎকালীন সিনেটর ও সাবেক আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী রোথাম ক্লিনটনসহ মোট ১৩টি স্মারক লিপি প্রেরণ করা হয়েছিল।

১/১১-এ, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার ও তাঁর মুক্তির আন্দোলন, কর্মসূচীর বিভিন্ন স্মৃতিচারণ আমাদেরকে এখনও ব্যাথিত করে তুলে। এখনও আমাদেরকে সবচেয়ে বেশী পীড়া দেয়-মিথ্যা মামলার অজুহাতে বার বার জাতির জনকের কন্যাকে ‘কাঠগড়ায়’ দাঁড়ানোর সেইসব বেদনাদাময় স্মৃতিগুলো। ১/১১-এ, ‘কাঠগড়ায়’ ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ ইহা জাতি যেমন কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি, তেমনি বহির্বিশ্বে বসবাসরত প্রবাসী বাঙ্গালী এবং আমরা মুজিবাদর্শের সৈনিকরাও তা কখনও মেনে নিতে পারিনি, মেনে নেইনি। তাইতো-হল্যান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষেও সেদিন আমাদের শপথ ছিল, বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমাদের প্রাণপ্রিয় ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘মুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবোনা। আমাদের কার্যক্রমের মধ্যদিয়েই সেদিনের শপথ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে-সেদিন বিনা কারণে গ্রেফতার করায়-আমরা আজও এর তীব্র নিন্দা জানাই।

১/১১-এ, জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে-লাগাতার আন্দোলনের প্রত্যেকটি কর্মসূচীর প্রতি হল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যাদের অকুন্ঠ সমর্থন, ত্যাগ ও প্রত্যাক্ষ অশংগ্রহন ছিল, আজকের দিনে সেই সকল নেতৃবৃন্দকেও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আজকের এই দিনের স্মৃতিচারণে এখানে আরও লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে যে, জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে-সর্ব ইউরোপীয়ায় আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি সর্বজনশ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্তের নেতৃত্বে সমগ্র ইউরোপে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সে আন্দোলনের সঙ্গেও সর্বসময় সক্রিয়ভাবে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল।

আজকের দিনের স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে আরও উল্লেখ করা হচ্ছে যে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে-হল্যান্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে ও সভাপতি মাঈদ ফারুকের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামানের পরিচালনায়-নেদারল্যান্ডস্হ হেগ শহরে ‘ওয়ার্লড পিস প্লেসে’ ১৩ই মে ২০০৮, “আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচারালয়ের (আদালতের)” সামনে এক বিশাল ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ‘বিক্ষোভ সমাবেশে’ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সর্ব ইউরোপীয়ায় আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি শ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের প্রধান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রবাসী সংঘঠক ও নেদারল্যান্ডসে বিশিষ্ঠ প্রবাসী বাঙ্গালী প্রয়াত ডা. ইউসুফ আহমেদ, সূদুর অষ্ট্র্রিয়া থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন, লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম, নজরুল ইসলাম এবং বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি জনাব রেজাউল করিম পান্না, বজলুর রশীদ বুলু, শহীদ, সালামসহ অনেকে। সেদিনের উক্ত ‘বিক্ষোভ সমাবেশে’ উপস্থিত হয়ে যারা ‘সমাবেশকে’ প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন, আজকের দিনে এদের সকলের প্রতি পুনঃ আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

সেদিন হল্যান্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উক্ত ‘সমাবেশে’ অতি কাছে থেকেও অনেকেই যোগদান করেনি, সফলতাও কামনা করেনি। যা এখনও আমাদেরকে পীড়া দেয়। ১/১১-সৃষ্টির পর এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেফতার ও তাঁর মুক্তির দাবীতে-হল্যান্ড আওয়ামী লীগ সর্বক্ষন সোচ্চার ছিল, এ কথা আমরা নিঃসংশয়ে ও দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি। কিনতু-বর্তমানে আমরা দেখে আসছি, ১/১১- সৃষ্টির পর এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তির আন্দোলনে যাদের কোন রকম সম্পৃক্ততা ছিল না, ‘যারা গা ডাকা’ দিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তাদেরই প্রধান্য ও প্রভাব বেশী এবং তারাই প্রথম কাতারে। যা ১/১১-এ, জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনের সময় মাঠের ও স্বক্রিয় নেতা-কর্মীদেরকে চরমভাবে আহত করে তুলে।

আজকের এই ‘কারাবন্দী’ দিবসে-আরও উল্লেখ করছি যে, দেশ ও বিশ্বজুড়ে দুর্বার আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে-বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ ১১ মাস ‘কারাবাসে’র পর, ১১ই জুন ২০০৮, তৎকালীন সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা, ৬ই জানুয়ারী ২০০৯, দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করেন। এবং ৫ই জানুয়ারী ২০১৪, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি তৃতীয় বারও সরকার গঠন করেছেন। আজকের এইদিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তিনবারের সফল ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে, তার হাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে আমরা দৃঢ়অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছি।

এখানে আরও উল্লেখ করছি যে, ১/১১-এ, যারা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাইনাস’ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, কোন না কোন ভাবে তারা এখনও স্বক্রিয়। এদের প্রতি সকলকে সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্যও আজকের এই ‘কারাবন্দী’ দিবসে-সকলের কাছে আমাদের উদাত্ত আহবান।

স্মরণ বার্তায় স্বাক্ষর করেনঃ হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাঈদ ফারুক, সহ-সভাপতি জনাব এমদাদ হোসেন, সহ-সভাপতি জনাব ইমরান হোসেন, সহ-সভাপতি জনাব জাকিরুল হক টিপু, সহ-সভাপতি জনাব সন্দীপ কুমার দাস, সহ-সভাপতি জনাব আবরার হোসেন শামীম, উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য জনাব মতিউর রহমান ও অমিত কাজল, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রশীদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল বাবুল, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক বিষ্ণু বিস্বাস, জনসংযোগ সম্পাদক ফজলুর রহমান, যুব ক্রীড়া সম্পাদক শামীম আক্রাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ভূশন চন্দ্র নাথ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নীপু দাশ ও কোষাধ্যক্ষ লক্ষন সরকার, কার্যনির্বাহী সংসদে’র সদস্য আলাউদ্দিন মোল্লা, জাহিদ হোসেন, আশিক, নূরুল ইসলাম নোমান, আতিকুর রহমান, কামাল হোসেন, মাসুদ, তপন সরকার, সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মশিয়ুর রহমান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 

Print Friendly
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
45Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax