Share

সামসুল ইসলাম মজনু: বেশ কিছুদিন যাবৎ লিখব লিখব বলে লিখা হয়ে উঠে নাই, পাছে কারো বিরাগ বাজন হই, অনেক কিছু ভেবে চিন্তা করে দেখলাম, না লিখলে নিজের কাছে নিজে প্রশ্নবিদ্ধ হবো, যে দলের জন্য অনেক শ্রম, মেধা অর্থ, দিলাম সেই দলের প্রবাসে এই কি করুন অবস্থা তাই দেখে মনকে স্থির রাখতে পারলাম না তাই নিজ দায়িত্বে কলম হাতে নিলাম এতে যদি বিএনপির একজন কর্মীও উপকারী হয় এবং দল ও উপকৃত হয় তখন হয়ত এই বলে শান্তনা পাব যাক দলের জন্য কিছু করতে পেরেছি। যাই হোক আসা যাক মূল কথায় একটা বহুল প্রচলিত কথা “সখী তুমি কার”? ঠিক একই ভাবে বলব ‘যুক্তরাষ্ট্র বি,এন,পি তুমি কার”? মাঝে মাঝে চিন্তা করি প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনীতি কি সত্যই কি কোন কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারবে? এ নিয়েও কিন্তু অনেক পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়টা নিয়ে গবেষনা ধর্মী সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে যার যার দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

প্রবাসে অনেক ধরনের সংগঠন রয়েছে তাদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম বেশী লক্ষ্যনীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আদর্শ ও উদ্দ্যেশ্য কিন্তু একই, এক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন গুলোর চাইতে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যপ্তি বেশী কারন তারা সমাজ ও জাতীর উন্নয়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করার মাধ্যমে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে, এখানে যতগুলো রাজনৈতিক দল কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা সবাই প্রত্যেকেই কোন না কোন রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসাবে দাবী করে। ঐ রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নীতিমালা রয়েছে যার মাধ্যমে এটা পরিচালিত হয়, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বি,এন,পির দাবীদার অংশগুলো কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না আদোও তারা কোন নীতিমালা মেনে চলছে মনে হয় না, সবকিছুই যেন হ-য-ব-র-ল অবস্থা, যার যে ভাবে ইচ্ছা একটা ব্যানার দিয়েই কর্মসুচী পালনের চেষ্টা চলছে, আর এই তারা তাদের ভিন্ন ভিন্ন কর্মসুচী করতে গিয়ে বিরোধী পক্ষের হাসীর খোরাক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বি,এন,পির প্রতিনিধিত্ব কারীরা মুলত; বলতে গেলে সেই জন্য আমরা সবাই কম বেশী দায়ী।

এক নেতা একবার বলেছিলেন ঢাকা ও লন্ডন থেকে কিছু নেতা এসে বলেন আমি আপনাদের জন্য এই করেঙ্গা ওই করেঙ্গা, কিন্তু নেতা যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্লেনে উঠেন তখন সবকিছু বেমালুম ভুলে যান এবং মুসকী হেসে পরবর্তী তামাসা দেখেন, আমাদের মত প্রবাসের খেটে খাওয়া দলীয় রাজনীতির অন্ধ কর্মীদের নিয়ে বিষয়টা সত্যই করুন। আমরা যারা প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনীতি করি তাদের বেশীর ভাগই খুব খেটে খাওয়া মানুষ যারা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের প্রতিষ্টার জন্য হাতে গোনা দুচার জন আছে যাদের অবস্থান ভিন্ন, অতচ এই মানুষ গুলোকে নিয়ে তামাসার খেলা চলছে, আজগুবি আজগুবি বার্তা দিয়ে দল ও দেশের ক্ষতি করতেছে, প্রকারন্তার দল ও দেশের যার পর নাই ক্ষতি করতেছে, তেরী হচ্ছে বেনীয়ার, বেনীয়ারা যেভাবে দেশ লুন্টন করে নিয়ে যায়, ঠিক একই জায়গায় বানরকে কলা দেখানোর মত এক শ্রেনীর কান্ডজ্ঞানহীন কিছু দুষ্ট চক্র একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে, মুরোদ নাই ত কিছু করার অতচ আমাদের মত সহজ সরল মানুষগুলো সর্বত্রই ওদের পুজায় মত্ব বাস্তবতা হলো এটা একটু চিন্তা করুন রাজা কয়জন হয়, অতচ এখানে দিবানিশী নতুন নতুন রাজা তারা তৈরী করতেছে, আসলে কি হচ্ছে, এখানে কেহ কি একটা বার চিন্তা করতেছেন, সামগ্রীক বিষয়টা খুব ভেবে দেখা দরকার রাজনীতি খুব সহজ বিষয় নয় যদিও একসময় বলা হতো রাজার নীতি, যদিও শব্দটা আজ নির্বাসনে। আজকের রাজনীতিতে পেশী শক্তি, অর্থশক্তির আর্বিভাব তার সাথে যদি মেধাশক্তির সমন্বয় হত তাহলে হয়ত ভাল হত। আসলে আমরা যারা প্রবাসে রাজনীতি করি দঃখজনক হলেও এগুলো কোন কিছুরই ব্যবহার দেখিনা দু একটা-বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমি বলব শত ধ্বংসের মাঝেও যদি কিছু সৃষ্টি হতো তবু বলা যেতে ঠিক আছে, আমি কিন্তু তার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। মাঝে মাঝে ঘৃনা লাগে নিজের কাছে, কেন এগুলোর সাথে জড়িত হলাম। নীতি বিবর্জিত ও মানুষগুলো যদি ভালর ভাল, মন্দর মন্দ একটা নীতি নিয়া চলত তবুও বলতাম ভাল হইছে। আরো আশ্চার্য বিষয় হচ্ছে যখন দেখা যায় ঐ ভাল লোকটাও গড্ডালিকা প্রবাহের মত গা ভাসিয়ে দেয় নুন্যতম বিবেচনা না করে, যার ফলশ্রুতিতে সম্মানহানির মত ঘটনাও ঘটেছে এখানে।

কে কাকে বলবে, কে কাকে বুঝাবে, এমনও মনে হয় সামগ্রিক বিষয়গুলোর উপর যদি সুনামীর মত ধাক্কা দেয়া যেত তাহলে হয়ত ভাল হত। আমার সে যোগ্যতা নাই, এমন কেউ কি আছেন বহুদা বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবেন। একেক বার একেক পীর সাহেবের আগমন হয়, হাই কমান্ডের দোহায় দিয়া সবকিছু লেজে গোবরে করে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা করেছি, পাছে আমি নেতা হয়ে যাই ভেবে আমাকেই মাইনাস করে দেয়া হয়েছে কথাটা এজন্য বলা হয়েছে যে, আমার কিছু শুভাকাঙ্খী ছিল যারা ঐ নেতার সাথে যুক্তি তর্ক করেছি বিধায় আমার ঐ শুভাকাঙ্খীরা এখন আমার কোন খবর নেন না কথাটি যদিও অপ্রাসাঙ্গিক তার পরও বললাম শুধুমাত্র একটা উদাহারন টানার জন্য। আসলে এই বার্তার মাধ্যমে সার্বিক বিষয়ের কিছু চিত্র ফুটে উঠেছে এখানে। রাজনীতি কিন্তু খুব সহজ বিষয় নয় এবং রাতারাতি নেতা হওয়া যায় না এটা একটা বন্ধুর পথ, উপস্থিত হয়ত কিছুটা লাভবান হলেও ওটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, এখানে এত নেতা, উপনেতা, পাতিনেতা আর্ভিবাব তারা এমন হুংকার দেয় যেন শেখ হাসিনার মসনদ এখনই খান খান হয়ে পড়ে যাবে, খবর নিয়ে দেখা যায় উনি সমগ্র বাংলাদেশ ত দুরের কথা নিজের এলাকার সাথেই কোন সর্ম্পক নাই, বিষয়টা একবার চিন্তা করেন, যে মাটির রাজনীতি করেন সে মাটির সাথে তাদের কোন সর্ম্পক নাই অথচ এখানে যত বাহাদুরী। ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ ভিন্ন ভিন্নভাবে দিবা নিশী সভা সমাবেশ করে যাচ্ছে, লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে এ সকল সভা সমাবেশের লক্ষন দেখলে সহজে বুঝা যায় প্রবাসে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির করুন অবস্থা, এই সভা সমাবেশে হাতে গোনা চার পাচজন ছাড়া সবগুলো সমাবেশেই একই মুখ এবং তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য শুধু বক্তব্য দেয়া, মুখস্ত করা কিছু বুলি আওড়নো, যখনই অনুষ্ঠানের আয়োজক কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিবেন না তখনই বিরাগ ভাজন হয়ে ঐ গ্রুপের সমালোচনা করা, আর তাই প্রায় দেখা যায় শ্রোতা থেকে নেতার সংখ্যা বেশী, নিজের কাছে লজ্জা পাই, তাই দলীয় বা জাতীয় কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ থাকলেও বিরত থাকি, আসলে বিষয়টা কিন্তু এখানে না, বিষয়টা হলো প্রায় কোন নিয়ম নীতি মানা হয় না এবং কেহ শুনক বা না শুনক যুক্তির শেষ নাই সবাই সব জান্তা অথচ এই লোকগুলোকে একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি লিখতে গিয়ে দেখা যায় কোন সাংবাদিক বা এই লাইনের কারো শরনাপন্ন হওয়া যা সত্যই দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কখনও লেখক বলি না আমি চেষ্টা করি একান্তই আমার মতামতকে তুলে ধরার। প্রায়ই দেখা যায় এমন এমন নেতার আর্বিভাব যাদেরকে কথা বলাও লিখে দেয়া হয়েছে এমন লোক যখন নিজেকে জাহির করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ পদবী অর্জনের দোহাই দিয়ে নিজের জাহিরত্ব প্রকাশের চেষ্টা করে তখন লজ্জায় মাথা নুইয়ে যায়, ভাবি হায়রে প্রবাস রাজনীতি।

এতক্ষণ শুধু ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা বা সমালোচনা করলাম কিন্তু আমার মুল বিষয়টাকে উপস্থাপন করে লেখার সমাপ্তি টানতে চাই। কেন যদি নেতা হতে চান বা নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী এটা কোন অন্যায় দেখি না, এখানে আমার মতামত হলো, ঐ নেতৃত্ব দেয়ার আগ্রহীকে কিছু কিছু বিষয় সজাগ থাকতে হবে, অবশ্যই অবশ্যই নীতি ব্রষ্ট হওয়া চলবে না, নিজের যোগ্যতায় বলিয়ান হতে হবে কারো করুনা বা দয়ার উপর নির্ভর করা চলবে না, এতে যতটুকু যোগ্যতার কথা বলা হবে তার চাইতে দুর্বলতা বেশী প্রকাশ পাবে। ছোট ছোট বিষয়কে গৌনভাবে নিয়ে বড় উদ্দেশ্যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সামান্য ত্যাগের মাধ্যমে শুধু নিজের নয় দলও বিশাল উপকার হবে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দিতে হবে, যারা ভিন্ন ভিন্ন উপগ্রুপ সৃষ্টি করেছেন তাদের প্রতি অনুরোধ এক কদম পিছিয়ে আসুন নেতৃত্ব হারবার জন্য নয়, সদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনার আস্থা আছে, এমন কাহাকেও বলেন উদ্যোগ নেয়ার জন্য, যদিও কাজটা কঠিন ও খুব শক্ত তারপরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হাই কমান্ডের কাছে এই বার্তা পৌছাতে হবে আমরা দলী রাজনীতি করি শৃঙ্খলিত ভাবে কোন প্রকার অনিময়কে প্রশ্রয় দেই না, বহুদা বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল নেতাদের এক পতাকার নিচে আসতে হবে তবে হাই কমান্ড হয়ত সদয় হয়ে একটা সুন্দর কমিটি উপহার দিতে পারেন, নয়ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি অনন্তকাল পর্যন্ত কমিটি বিহীন চলবে এবং বেনীয়াদের ব্যবসা ফুলে ফুফে উঠরে এবং খেটে খাওয়া দলকানা কর্মীদের শত শ্রমের কষ্টের ফসল অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে।

 

সামসুল ইসলাম মজনু
প্রাক্তন সহ সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

 

Print Friendly
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
70Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax