Share

ঢাকা: কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার অপহরণ হননি বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক-আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি জানান, স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ আদায় ও সরকারকে বিব্রত করাই ছিল ফরহাদের লক্ষ্য।আলোচিত এই ‘অপহরণ’ মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, এক নারীর সঙ্গে আলোচিত-সমালোচিত এই লেখকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরেই তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। ১৯ ঘণ্টা পর খুলনা থেকে বাসে করে ঢাকায় ফেরার পথে তাকে যশোরের অভয়নগরে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই রাতেই ফরহাদকে অপহরণের অভিযোগে রাজধানীর আদাবর থানায় মামলা করা হয়।

পরদিন ঢাকায় নিয়ে আসার পর ফরহাদ মজহার আদালতে তার জবানবন্দি দেন। নিজ জিম্মায় মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। এরই মধ্যে মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগকে। তদন্ত চলাচালে গত ৮ জুলাই আইজিপি এক অনুষ্ঠানে জানান, ফরহাদ মজহার অপহরণ হয়েছিলেন বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে না। ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, তাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য এবং ফরহাদ মজহারের জবানবন্দিতে কিছু অমিল আছে।

একই দিন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কথিত অপহরণের দিক ফরহাদ মজহারের খুলনায় অবস্থানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু ফুটেজ প্রকাশ করে। এতে দেখা যায় বিকাল ৪.৩১ মিনিটে ফরহাদ মজহার খুলনা নিউমার্কেটে প্রবেশ করেন। এ সময় তার পরনে ছিল চেক লুঙ্গি, সাদা পাঞ্জাবী এবং মাথায় ছিল পাগড়ী। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ফরহাদ মজহার নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের প্রবেশ মুখ দিয়ে প্রবেশ করেন। বিকেল ৫.১৭ মিনিটে তাকে একই জায়গায় পায়চারী করতে দেখা যায়। এসময় নিজেকে আড়াল করার চেষ্টাও করেন তিনি। এসময় তার কাঁধে ঝোলানো ছিল সাদা রঙের ব্যাগ।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৬টা ২৩ মিনিটে অন্য একটি ক্যামেরায় তাকে দেখা যায় অনেকটা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে ফরহাদ মজহার নিউ মার্কেটের দোতলায় ওঠে যাচ্ছেন। সব শেষ ৬টা ৪৪ মিনিটে স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে মার্কেট এলাকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন ফরহাদ মজহার। তবে ফরহাদ মজহার যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে ৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, সন্ধ্যা সাতটার পর অপহরণকারীরা তার চোখ খুলে ছেড়ে দেওয়া হয় খুলনায়। এর আগে ফরহাদ মজহারের স্ত্রীকে বলেছিলেন, অপহরণকারীরা তাকে নির্যাতন করেছে।

আইজিপি বলেন, ‘৩ জুলাই তারিখে অনুমান সকাল আট দিকে ফরহাদ মজহারের স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেন তিনি (ফরহাদ মজহার) অপহরণ হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ৫.২৯ মিনিটে কে বা কারা তাকে নিয়ে যাচ্ছেন, তাকে মেরে ফেলবে।’ ‘এই সংবাদ পাওয়ার পরে আমরা পুলিশের প্রত্যেকটি সংস্থা সমন্বয়ে কাজ করেছি। তার টেলিফোন নম্বর চালু ছিল, আমরা প্রত্যেকটা জেলায় চেকপোস্ট বসিয়েছি। আমরা যখন জানি তখন তিনি আরিচা পার হয়ে গেছেন’-বলেন পুলিশ প্রধান।

‘আমাদের তথ্য ছিল মাইক্রো বাসে নিয়ে যাচ্ছে। অপহরণকারীরা মাইক্রাবাসে নিয়ে যায়, বাসেও যায় না, অন্য কোন যানবাহনে তারা যায় না। সে কারণে কমন মাইক্রোবাসগুলো আমরা চেক করেছি। কিন্তু কোন মাইক্রোবাসে আমরা পাই নাই।’ ‘পরে আমরা আভাস পেলাম বাসে করে তিনি ঢাকায় আসতেছেন। তখন আমরা এখান থেকে বলার পরে অভয়নগর থানার ওসি এবং এসপি যশোরকে বলেছি। তারা গাড়িকে থামিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে এসেছে।’

আইজিপি জানান, কথিত অপহরণের দিন ফরহাদ মজহার তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে ১০ বার এবং অন্য একজন নারীর সঙ্গে ছয় বার কথা বলেছিলেন। এসব কথোপকথনের সব রেকর্ডই পুলিশের কাছে আছে। এই কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওই নারী তার কাছে জানতে চান তিনি অপহৃত হয়েছেন কি না। জবাব ফরহাদ মজহার বলেন তিনি ভাল আছেন। এবং ওই সন্ধ্যায় তিনি খুলনা থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দুই দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠান।

আইজিপি বলেন, ‘ওনি বলছেন অপহরণকারীরা তাকে সন্ধ্যা সাতটার সময় ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা তথ্য পেলাম তিনি নিজে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কেটেছেন এবং তার নাম মি. গফুর দিয়েছেন, ফোন নম্বর আবার নিজেরটাই দিয়েছেন। ওনি যে নিজেই হানিফ কাউন্টারে ছিলেন তা সিসি টিভির ফুটেজ আছে আমাদের কাছে।’

Print Friendly
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
48Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax