khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

নাগরিক আন্দোলন সুইডেন শাখার আলোচনা সভা

2 120

সালাম খান : গতকাল ৯ জুলাই দুপুর ২ টায় নাগরিক আন্দোলন সুইডেন শাখার উদ্যোগে ইন্ডিয়ান গার্ডেন রেস্তরায় বাংলাদেশে গুম. খুন ও হত্যা সহ বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক, কলামিষ্ট ও বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মজহারকে অপহরনের প্রতিবাদে নাগরিক আন্দোলন সুইডেন শাখার আহবায়ক সোহেল সাদিকের সভাপতিত্বে ও সফিক চৌধুরী রিপনের উপস্থাপনায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক রেজাউল করিম শিশির। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল সিপার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে আরশাদ খান টুটুল ও উপসলা থেকে আগত মেহবুব হাসান শাহিন। ফরহাদ মজহারকে অপহরনের প্রতিবাদে ষ্টকহোমে নাগরিক আন্দোলন সুইডেন এর উদ্যেগে এ ধরনের একটি আলোচনা সভার আয়োজন করায় নাগরিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহবায়ক জনাব এম এ মালেক টেলিফোন করে সভার সাফল্য কামনা করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম শিশির বলেন, আমি আজ খুবই আনন্দিত আপনাদের উপস্থিতির জন্য। আপনাারা জরুরী কাজ ফেলে রেখে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে এসেছেন- এজন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রথমেই স্মরন করছি এম এ মালেক ভাইকে, যার মাধ্যমে আমরা সুইডেনে একটি নাগরিক আন্দোলনের শাখা গঠন করতে পেরেছি এবং যার নেতৃত্বে গোটা বহির্বশ্বে নাগরিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আমি আজ সকলের পক্ষ থেকে মালেক ভাইকে তার এ মুল্যবান অবদানের জন্য সালাম জানাই।

তিনি বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট, শাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবি জনাব ফরহাদ মজহারকে সম্প্রতি অপহরনের প্রতিবাদে। ফরহাদ মজহারকে অপহরন করার একদিন পুর্বে তিনি ভারতে গো-হত্যার মিথ্যা অপবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেককে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় একটি সভায় বক্তব্য রাখেন। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, এ কারনে তাকে অপহরন করা হয়েছিল এবং তাকে অপহরন করা হয়েছিল গুম করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে তার অপহরনকে কেন্দ্র কওে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বে মিডিয়া ও সামাজিক ফেইজবুকে এ নিয়ে ব্যপক তোলপার শুরু হয় এবং যখন অপহরনকারীরা বুঝতে পারল, ফরহাদ মজহারকে হজম করা যাবে না , তখন তাকে ছেড়ে দেয়া হোল। আমি আজ এ সভার মাধ্যমে ফরহাদ মজহারকে অপহরনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আপনারা জানেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা কিছুদিন পুর্বে সুইডেন সফরে এসেছিলেন। তার সুইডেন সফরের সময় একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ক্যামেরাতে তোলা ছবি জোর করে ডিলেট করা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে সুইডেনের মিডিয়াতে ব্যাপক প্রতিবাদ ও তোলপাড় হয়েছে। বিদেশের মাটিতে এ অবস্থা হলে, দেশে কি কঠোর স্বৈরাচারী কর্মকান্ড বিরাজ করছে-তা অতি সহজেই অনুমান করা যায়।

প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে নাজমুল সিপার বলেন, যে দেশে গনতন্ত্র আছে, সে সব দেশে মানবাধিকার স্বাভাবিক ভাবেই রক্ষিত হয। যে সব দেশে গনতন্ত্র নেই সেই সব দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে গনতন্ত্র নেই। সে কারনেই বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এ ধরনের মানবাধিকার সংগঠনের দরকার আছে। আরশাদ খান টুটুল বলেন, আমাদের দেশ এখন একটা কঠিন সময় পার করছে। এর মোকাবিলা শুধু রাজনৈতিক দলের কাজ নয়। সকল নাগরিকের দাযীত্ব রয়েছে। অতএব, নাগরিক আন্দোলনের ন্যায় একটি প্লাটফরম এর দরকার আছে। আজ ভারত নিয়ন্ত্রন করছে আমাদের দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতি। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এটা ঠেকাতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতএব, এ ধরনের নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মেহবুব হাসান শাহিন বলেন, নাগরিক আন্দোলনের মত একটি মানবাধিকার সংগঠন যারা সৃষ্টি করেছেন আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশে মানবাধিকার বা মানুষের মৌলিক অধিকার বলতে কিছু নেই। অতএব, বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে এধরনের একটি সংগঠন কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং আমি এ সংগঠনের সাথে কাজ করার অঙ্গিকার করছি।
উক্ত প্রতিবাদ সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সুমন আহমেদ, সোহেল, সাইফুল মিথুন ও আনোয়ার কাদের চৌধুরী। তারা বলেন, বাংলাদেশে এখন অপহরন ও গুম-খুনের মহড়া চলছে। আগে রাজনৈতিক নেতাকর্মিরা গুম-খুনের শিকার হোত, কিন্তু এখন বুদ্ধিজীবিরাও গুম,খুন ও অপহরনের শিকার হচ্ছে। দেশে আজ ৭১-৭৫ এর ন্যায় অপহরন, গুম ও খুনের মত বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এখানে সাংবাদিক সালাম ভাই উপস্থিত আছেন। তিনি লেখালেখির মাধ্যমে সব সময়ই আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন। আমরা আশা করবো তিনি আগামী দিনে লেখনির মাধ্যমে সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবেন। বর্তমানে একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে নাগরিক আন্দোলন সুইডেন শাখা পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত একটি পুর্নাংগ কমিটি গঠন করব এবং একটি স্থায়ী অফিস নিয়ে কাজ করব।

সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক আন্দোলন সুইডেন এর আহ্বায়ক সোহেল সাদিক কলেন, আমরা আজ বাংলাদেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মজহারকে অপহরনের প্রতিবাদে এখনে উপস্থিত হয়েছি। তিনি ভারতে গো-হত্যার মিথ্যা অপবাদে অনেক মুসলমানকে হত্যার প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেওয়ার কারনে তাকে গুম করার উদ্দেশ্যে অপহরন করা হয়েছিল। শুধু তাকেই না, আজ বাংলাদেশে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে বা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললেই অপহরন, গুম ও হত্যার শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে অহরহ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশে গনতন্ত্র নেই। ভোটার বিহীন বর্তমান স্বৈরশাসকের নির্যাতন-নিপিড়নে দেশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমাদের নাগরিক আন্দোলন এর মাধ্যমে কাজ করতে হবে এবং বহির্বিশ্বে মানবাধিকার কর্মিদের মধ্যে ব্যপক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি সকলের প্রতি ঐক্যের আহবান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন এবং প্রতিবাদ সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email
2 Comments
  1. M Hassan says

    Well done brother, keep it up

  2. abul hussain says

    সুন্দর একটি উদ্দ্যোগ,
    সারা বিশ্বে এর বিস্তার লাভ করবে। শুভ কামনা রইলো।

Leave A Reply