Share

ঢাকা: দেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে সূচনা হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়ের। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নের ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ ব্র্যাক অন্বেষা’।স্যাটেলাইট প্রকল্পের উদ্যোক্তারা হলেন রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মায়সূন ইবনে মনোয়ার। এটি আকাশে উড়বে খুব শিগগিরই।স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কিউটেক) অধ্যয়নরত তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালে তারা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপরই তারা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কিউটেক), স্যাটেলাইট বানানোর বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে। তাদের এই স্যাটেলাইট প্রকল্পে আরও উৎসাহ জাগাতে দ্বিধাবোধ করেনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান।তিনি জানান, ন্যানো স্যাটেলাইটটি পৃথিবী হতে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করবে এবং পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে আসতে ৯০ মিনিট সময় নিবে। এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে দিনে ৪ থেকে ৬ বার উড়ে যাবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাজাহান মাহমুদ, বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি তোশিয়ুকি নোগুচি প্রমুখ।

ভিডিও কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইউজি অই ও কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ল্যাবরেটরি অফ স্পেসক্রাফট এনভারনমেন্ট ইন্টারাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক মেংগু চো। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত ছিলেন আরিফুর রহমান খান; এই প্রকল্পের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাবেক সহকারী অধ্যাপক এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস, এল্পাসো এর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এসময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাজাহান মাহমুদ ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পের উদ্যোক্তা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মায়সূন ইবনে মনোয়ারকে তাঁদের অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান।

ব্র্যাক অন্বেষার মিশন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই প্রকল্পের তিন শিক্ষার্থী জানান মহাকাশে স্যাটেলাইটটি ৬টি ভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনে কাজে লাগানো হবে।স্যাটেলাইট থেকে উচ্চমানের ছবি পাওয়া যাবে যা ব্যবহার হতে পারে দুর্যোগ মোকাবেলা, কৃষি উন্নয়ন বা নগর পরিকল্পনায়।স্যাটেলাইট থেকে শোনা যাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অথবা দুর্যোগ কালীন জরুরী সংকেত।মহাকাশের উপস্থিত রেডিয়েশন যে কোন স্যাটেলাইট এর ক্ষতিকারক। রেডিয়েশন সুরক্ষার জন্য স্যাটেলাইট বানাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। কিন্ত রেডিয়েশনের উপস্থিত পরিমান আজও অনিশ্চিত, যা পালটে দিবে ব্র্যাক অন্বেষা ।পৃথিবীর স্থান ভেদে রেডিয়েশনের মাত্রা বলে দিবে স্যাটেলাইট টি।

ব্র্যাক অন্বেষাতে থাকছেনা কোন জি.পি.এস। তা সত্ত্বেও ৭টি দেশের গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইট এর রেডিও সিগনাল বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারবে কোথায় আছে স্যাটেলাইট।বায়ুমণ্ডল এর ঘনত্ব মাপবার কাজেও ব্যবহার হবে ব্র্যাক অন্বেষা। আহরিত উপাত্ত হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের জ্বলন্ত মাপকাঠি।২০১৬ সালের জুনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ন্যানো স্যাটেলাইট নির্মাণ ও মহাকাশে তা উৎক্ষেপণের জন্য জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তি করে। নকশা তৈরি, উপকরণ সংগ্রহ, তারপর ন্যানো স্যাটেলাইট বানানো সব কাজই করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই তিন শিক্ষার্থী অন্তরা, কাফি ও মায়সূন ।

তবে জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির মাধ্যমে ন্যানো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজ হলেও ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন হচ্ছে বাংলাদেশেই। এ প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে ৭টি দেশের গ্রাউন্ড স্টেশন, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক দল শিক্ষার্থী, মোজাম্মেল হক, সানন্দ জগতি, বিজয় তালুকদার ও আইনুল হুদা স্টেশন তৈরির কাজে রয়েছেন। সব চেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে, এ রকম প্রকল্প এর আগে কেও চিন্তাও করে নাই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

Print Friendly
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
82Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax