khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

নিউইয়র্কে জাকির খানের ঘাতকের বিচারের দাবিতে ব্রঙ্কস সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ ২২ জুন

0 15

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : জাকির খানের ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে ২২ জুন বৃহস্পতিবার ব্রঙ্কস সুপ্রিম কোর্টের সামনে বড় ধরনের শো-ডাউনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্য দিয়ে কম্যুনিটিকে জানান দিতে হবে যে, বাংলাদেশী কাউকে আক্রমণ করলে রেহাই পাওয়া যাবে না। জাকিরের মত আর কেউ যাতে অকালে ঝরে না পড়েন, সে জন্যে এই কর্মসূচিতে সকলের উপস্থিতি কামনা করা হয়।
‘ইউনাইটেড বাংলাদেশী ফর জাকির এ খান’ নামক একটি ব্যানারে ১৮ জুন রোববার দুপুরে জ্যাকসন হাইটসে ‘ইদ্যাদি গার্ডেন’-এ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো জানানো হয় যে, ইতিমধ্যেই ব্রঙ্কসে আক্রান্ত প্রায় সবকটি ঘটনার দুর্বৃত্তরা গ্রেফতার হয়েছে। হেইট ক্রাইমের ভিকটিমরা যদি সাথে সাথে পুলিশকে সবকিছু খুলে বলেন তাহলে দুর্বৃত্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ভিকটিম তথা আক্রান্তরা পুলিশের কাছে বলেন এক কথা, কম্যুনিটি অথবা আত্মীয়-স্বজনকে বলেন ভিন্ন কথা। এরফলে তদন্ত কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সর্বশেষ কামালউদ্দিন (৩৯)নামক বাংলাদেশী এক ইমাম ১৫ জুন ব্রঙ্কসের ক্যাসেলহিল ইউনিয়ন পোর্ট এলাকায় ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হলেও পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে তা অবহিত করেননি। পরবর্তীতে তিনি বলেছেন পরিচিতজনদের কাছে। কামালউদ্দিনকে নিকটস্থ জ্যাকবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ‘ফোন্স ক্লাব’ নামক একটি স্টোরের সিসিটিভি দেখে দুই দুর্বৃত্তকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। এ ধরনের হামলা প্রায়ই ঘটছে বলেও উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নে নিজ বাসার সামনে তাহা মেহরান (৫১) নামক এক পাকিস্তানীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন হন জাকির খান। ঐ পাকিস্তানী নিজেই পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আত্মসমর্পণকালে জানিয়েছেন যে, ৯/১০ মাস যাবত বাড়ির ভাড়া না পেয়ে তিনি ভাড়াটে জাকিরকে হত্যা করতে বাধ্য হন। সংবাদ সম্মেলন থেকে ‘ইউনাইটেড বাংলাদেশী ফর জাকির এ খান’র প্রধান সমন্বয়কারি বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, বকেয়া ভাড়া আদায়ের জন্যে সিটিতে কঠিন আইন রয়েছে। সে পথে না যেয়ে সরাসরি তার ১২ বছর বয়েসী পুত্রের সামনে জাকির (৪৪)কে নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে অন্য কোন মোটিভ যে ছিল না-এটি সহজে মেনে নেয়া যায় না। এজন্যে বিস্তারিত তদন্ত চাচ্ছি আমরা।’

হোস্ট সংগঠনের সদস্য সচিব ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে এই হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হবার কথা ২২ জুন সকাল ৯টায়। এজন্যে আমরা ঐ সময়ে যতবেশীসংখ্যক সম্ভব প্রবাসী জড়ো হতে চাই। তাহলে মাননীয় আদালতে বিচারটি গুরুত্ব পাবে।’নিউইয়র্ক অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্যে আমরা সর্বস্তরের প্রবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি যথাসময়ে ব্রঙ্কস সুপ্রিম কোর্টের সামনে জড়ো হবার জন্যে।’

বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হোস্ট সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম হাওলাদার বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অন্যেরা আর সাহস পাবে না বাংলাদেশীদের গায়ে হাত দিতে।’কম্যুনিটি লিডার সিরাজ উদ্দিন সোহাগ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধুমাত্র জাকির খানের হত্যাকান্ডের বিচার ইস্যুতে মাঠে নেমেছি। তবে তার পরিবার যদি কোন ধরনের সহায়তা চায় তাহলে আমরা সে উদ্যোগ নিতেও পিছপা হবো না।’ এ সময় সেখানে জাকির খানের বড়ভাই নাদির খানও ছিলেন।

এদিকে, এর আগে জাকির খান হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে সমগ্র কম্যুনিটিকে সোচ্চার করতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠিত এবং প্রতিবাদ সমাবেশ সমন্বিত করতে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদকে আহবায়ক, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েলকে সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদারকে প্রধান সমন্বয়কারী ও মুখপাত্র করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হচ্ছেন সিনিয়ার যুগ্ম আহবায়ক বদরুল হোসেন খান, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম হাওলাদার, আব্দুল হাসিম হাসনু, আব্দুস শহিদ, আনোয়ার হোসেন, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এবং ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব নুরুল এহিয়া, নজরুল হক, মনজুর চৌধুরী জগলুল, শাহেদ আহমদ, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, শামীম মিয়া, মিজান খান, এ ইসলাম মামুন, সারওয়ার চৌধুরী, জুসেফ চৌধুরী, মোশাহিদ চৌধুরী, সৈয়দ নোমান এবং মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, সমন্বয়কারী শামসউদ্দীন, কাওছারুজ্জামান কয়েছ, আহসান হাবিব, দুরুদ মিয়া রনেল, হারুন আলী, তুষার আহমদ, হোসেন আহমদ (নিউজার্সি), সিরাজুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, কাওছার আহমদ, আব্দুর রহিম, সেবুল খান মাহবুব, সৈয়দ এনাম আহমদ, শেখ মজনু মিয়া, মাকসুদা আহমদ, শিশু আহমদ, হুমায়ুন আহমদ চৌধুরী এবং জে মোল্লা সানীর সমন্বয়ে ‘ইউনাইটেড বাংলাদেশী ফর জাকির এ খান’ গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা হলেন নার্গিস আহমদ, রানা ফেরদৌস, আজমল হোসেন কুনু, একলিমুন জামান নুনু, রুহুল আমিন সিদ্দিকি, গিয়াস আহমদ, মাহবুব আহমদ, রিয়াজ উদ্দীন কামরান, আবুল খায়ের, নাজমুল হক চৌধুরী হেলাল, সৈয়দ মুজিবুর রহমান, তোফায়েল চৌধুরী, প্রফেসর কাইয়ুম, আব্দুল বাসির খান, আজিমুর রহমান বুরহান, শেখ আল মামুন, ডা. নাহিদ খান, আজমল শাহীন, ময়নুজ্জামান চৌধুরী, হারুন আহমদ চৌধুরী, আব্দুর রহিম, আব্দুল কাদির চৌধুরী শাহিন, আতাউর রহমান সেলিম, আব্দুর রব দলা, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, শাহ মিজাুনুর রহমান, বদরুন নাহার খান মিতা, রেক্সোনা মজুমদার, বেলাল উদ্দীন চৌধুরী, নুরে আলম জিকু, ফজলু মিয়া, মেসবাউজ্জামান, কফিল উদ্দীন চৌধুরী, আব্দুল মছব্বির, আনছার আহমদ চৌধুরী, আব্দুস শহিদ দুদু, আব্দুর রউফ মছরু, সুলেমান আলী, আব্দুর রহিম বাদশা, এ টি এম কামাল, সিরাজ উদ্দীন আহমদ সোহাগ, মিজানুর বহমান চৌধুরী শেফাজ, আসাদুল গনি, সিরাজুল ইসলাম বেগ, আজির উদ্দীন, আব্দুল বাসিত চৌধুরী মাসুক, মোহাম্মদ আলী, লোকমান হোসেন লুকু, শেখ আল ওয়াহিদ নাজিম, জাকির আহমদ, আবুল খায়ের আকন্দ, ইমরান শাহ রন, সারোয়ার আলী, মাহবুব আলম, মোমেনুল ইসলাম, আবুল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আব্দুল হাসিব মামুন, আজম চৌধুরী, সাগর নন্দী, জুহেল আহমদ, বাহার উদ্দীন চৌধুরী, চৌধুরী মোমিত তানিম, শাহ আলম, বুবহান উদ্দীন, মোহাম্মদ আলী রাজা, শাহ বদরুজ্জামান রুহেল, আপ্তাব খান মোহন. রেহানুজ্জামান, শামীম আহমদ, গোলাম রাব্বানী চৌধুরী, ফারহানা চৌধুরী, সোহেল আহমদ, ফখর উদ্দীন, আলতা মিয়া, হেলাল উদ্দীন চৌধুরী, বুরহান উদ্দীন, তৌফিকুর রহমান ফারুক, সাব্বির আহমদ, রোকন হাকিম, হেলাল উদ্দীন. তানভির শামীম লোবান, প্রফেসার খলিলুর রহমান, আশরাফ আহমদ ইকবাল, এনায়েত হোসেন জালাল, শাহ আলাউদ্দীন, মামুন আহমদ, জামাল হোসেন, মাজহারুল ইসলাম জনি, মোহাম্মদ আলী মান্নান, জুনেদ আহমদ, আব্দুল মোহিত, জুনেদ আহমদ চৌধুরী, আহবাব চৌধুরী খোকন, মকন মিয়া, মনির আহমদ, মনাফ আহমদ, তোফায়েল আহমদ, বশির উদ্দীন, মনিকা রায়, খালেদ আহমদ, মাওলানা রশিদ আহমদ, সৈয়দ এম কে জামান, জামাল হোসেন, সাহিদ আলী, সামাদ মিযা জাকের, আশরাফুজ্জামান, সরোয়ার আলী, নুরুজ্জামান লিপন ও জুবের চৌধুরী।

এদিকে ১৮ জুন রোববার প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে চার দুর্বৃত্তের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার বাংলাদেশী ইমাম কামাল উদ্দিন মুন্সী এ সংবাদদাতাকে জানান, দাঁড়ি-টুপি-পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ছিলাম বলেই হিসপ্যানিক যুবকেরা আমার ওপর হামলা করে। সে সময় মুসলমানদের সম্পর্কে অকথ্য গালাগালিও করেছে। যুবকরা আমার মুখ ও মাথায় এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করে।

স্টারলিং-বাংলাবাজারের কর্নার ঘেঁষে ইউনিয়ন পোর্ট রোডের ওপরে এই হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৫ জুন বৃহস্পতিবার ইফতার পরবর্তী সময়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত কামাল উদ্দিনকে হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করে নিয়ে যায়। কামাল উদ্দিন মুন্সী পার্কচেস্টারের ৫০২১ ইউনিয়ন পোর্ট রোডে স্ত্রী, ১ ছেলে ১ মেয়েসহ পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার দেশের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিঠির নাচনমহল গ্রামে। এ ঘটনায় ব্রঙ্কসে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভিকটিম কামাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ইফতার শেষে বাংলাবাজার জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে ওই মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্টারলিং-বাংলাবাজারের প্রিমিয়াম সুইটস অ্যান্ড রেষ্টরেন্টে চা খেতে যান। সেখান থেকে একাকী বাসায় যাওয়ার পথেই এই হামলার শিকার হন। ইউনিয়ন পোর্ট রোডের ওপরে একটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে আকস্মিকভাবে দু’যুবক তার ওপর হামলে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরো দু’যুবক তাদের সাথে যোগ দিয়ে হামলার তান্ডবে মেতে ওঠে। তাদের উপর্যপূরি আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এসময় তার আর্তচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে দু’যুবক প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যায়। অন্য দু’যুবক ইউনিয়ন পোর্ট রোডের বাংলাদেশীয় মালিকানার একটি মোবাইল ফোন দোকানে ঢুকে পড়েন। এসময় পুলিশে কল করা হয় এবং আহত কামাল উদ্দিন লোকজন নিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য ঐ দোকানে গেলে দু’যুবক আবারও সবার সামনে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ এসে ওই দু’যুবককে আটক করে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ জুন (পবিত্র রমজানে) ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ম্যাগ্রো এভিনিউর মসজিদে তারাবীর নামাজে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি আতিক আশরাফের মারাত্মক জখমের ঘটনাসহ আরো বেশ ক’টি ঘটনার বিবরন তুলে ধরে তাদের আতঙ্ক ও ক্ষোভের কথা জানান পুলিশ অফিসারকে। কয়েকজন মুসল্লী জানান, তারা এখন পায়জামা-পাঞ্জাবী পরতে রীতিমত ভয় পান। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্রেকার্সফিল্ডে গত ১২ জুন ভোরে বন্দুকের গুলিতে নিহত মোস্তাফিজুর রহমান সেন্টুর ঘাতক এখনও শনাক্ত হয়নি বলে সেন্টুর ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজনেরা জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply